[গুয়াংজুঁর ক্যান্টন টাওয়ার চীনের
অন্যতম দর্শনীয় স্থান। লাগোয়া আছে
নদী।
দুইয়ে
মিলে
রোমাঞ্চকর জগৎ।
রয়েছে
সারাদিন ধরে
দেখার
মত
মনোমুগ্ধকর স্থাপনা। সন্ধ্যেয় দেখা
মেলে
কল্পনাতীত স্বর্গীয় দৃশ্য। অনেক
রাত
অবধি
থাকে
মানুষের জমজমাট কোলাহল।
দিনের আলো কাটতেই হরেক রকম আলোকমালায় দৃশ্যমান হতে থাকে সুবৃহৎ টাওয়ার। ধীর লয়ে চলে যায় নাচের জগতে। রঙের নহর ছড়াতে থাকে চারদিক। প্রকৃতি জুড়ে দিতে থাকে ঝলকানি। টাওয়ারের রঙ বদলাতে থাকে। চারদিকের বিশাল বিশাল অট্টালিকাগুলোও ঘটাতে থাকে বাহারি রঙের বিচ্ছুরণ। আলোক রশ্মির ছড়াছড়ি চলতে থাকে অবিরাম। সব মিলিয়ে এলাকাটি হয়ে ওঠে বর্ণিল। এরসঙ্গে যুক্ত থাকে প্রাণ জুড়ানো চীনা মিউজিক। ফাঁকা এলাকা বলে বয়ে যায় প্রবল বেগের স্নিগ্ধ বাতাস। জায়গাটি এভাবেই পরিণত হয় স্বপ্নিল ভূস্বর্গে। বেড়াতে বা ভ্রমণ করতে আসা শত-সহস্র্র নারী-পুরুষ-শিশু-বৃদ্ধ এর মধ্যদিয়ে চলে যান আকাশে ভেসে চলার মত অন্য এক জগতে, যেখানে শুধুই আনন্দ আর আনন্দ।
ঠিক এরকম দৃশ্যের ভেতর আরেক দৃশ্য হয়ে ওঠে বয়ে চলা নদী। এর ঢেউ খেলানো পানিকে তখন আর পানি মনে হয় না, মনে হয় যেন হাজারো রঙের উত্তাল নৃত্য। লাল, নীল, হলুদ, সাদা, কালো, সবুজসহ অসংখ্য রঙের খেলায় মেতে ওঠে নদী। তার ভেতর দিয়ে চলাচল করে আলোকমালায় সজ্জিত স্টিমার আর নৌকা। এই স্বপ্নজগৎ ভ্রমণ নিয়েই এ প্রতিবেদন।]
গুয়াংজুঁর ক্যান্টন নগরী
নদী-টাওয়ারের স্বপ্নজগৎ
ইয়াসমিন হোসেন
সময়টা ছিল দুপুর। মাত্র ক’মাস
আগের
কথা।
গুয়াংজুঁর সানিয়ানলি। হোটেল
থেকে
মেট্রো স্টেশন। তারপর
ট্রেন
যাত্রা। কয়েক
দফা
লাইন
পাল্টানো, তারপর
শেষ
মেট্রো। এই
মেট্রো নামিয়ে দিয়েছিল ক্যান্টন টাওয়ারের নিচে
মাটির
তলায়।
তারপর
সেখান
থেকে
চলন্ত
সিঁড়ি
দিয়ে
ওপরে
ওঠা।
সঙ্গে
সঙ্গে
দৃশ্যমান হয়ে
ওঠে
সুবিশাল ভবন।
ভবনের
ছাদেই
দানবতুল্য টাওয়ার।
যে ভবন দিয়ে এগুচ্ছিলাম, সেটা অত্যাধুনিক শপিং মল। অসংখ্য স্টল আর ঝলমলে আলো চারপাশটাকে রঙ্গমঞ্চ বানিয়ে রেখেছিল। নানা অঙ্কন চিত্রে সাজানো ছাদ এবং দেওয়ালগুলোর লাউডস্পিকার থেকে ভেসে আসছিল চাইনিজ মিউজিক। দুপুর বেলায়ই নেমে এসেছিল রঙিন রাত। কারণ বাইরের আলো প্রবেশের সুযোগ ছিল না।
খানিকটা পথ পেরিয়ে গেলেই বেরুনোর পথ। সেই পথ পার হলেই ভিন্ন জগৎ। অকস্মাৎ উজ্জ্বল ঝকঝকে দিন। চারপাশ জুড়ে রং বে রংয়ের ভবন। আরও খানিকটা হাঁটা। তারপর চোখের সামনে ভেসে ওঠে গুয়াংজুঁর বিখ্যাত ক্যান্টন টাওয়ার। এতোটাই উঁচু যে, মাথাকে পেছন দিকে পুরো ৯০ ডিগ্রি নামিয়ে ফেলতে হয়। দিনের বেলায় টাওয়ারকে সূর্য্যরে আলোয় অন্যরকম দেখায়। সাদা-হলুদ এবং খয়েরি রংয়ের এ দানব একেবারে আকাশমুখি। ভবনের ছাদে এর দাঁড়িয়ে থাকা। সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয়। সেখানেও আছে নানান আকর্ষণীয় স্থাপনা। ছাদটা নেহায়েত ছোটখাটো নয়। বড় কোন স্টেডিয়ামের সমান। যেখানে আছে সময় কাটানোর সবরকম সুযোগ এবং সুবিধা। আছে বসার জায়গা, রেলিংয়ে দাঁড়িয়ে দূরের দৃশ্য ধারণের ব্যবস্থা। আছে রেস্টুরেন্ট আর অ্যাকুরিয়ামের মত পানির পুকুরে জলকেলির আয়োজন। ঠিক একই রকম ব্যবস্থা আছে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকা টাওয়ারের শরীর জুড়ে। একতলা, দোতলা, তিনতলা- এভাবে আছে অনেকগুলো তলা।
ক্যান্টন টাওয়াটা আসলে একটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। একইসঙ্গে টেলিভিশন টাওয়ারও। অ্যান্টেনাসহ এর উচ্চতা ৬শ মিটার বা ১৯৬৮ ফুট। স্থায়ী কাঠামো দাঁড়িয়ে ৪৫০ মিটার জুড়ে। ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এটি ছিল বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু টাওয়ার। টাওয়ারের বিভিন্ন অংশ বা তলায় রয়েছে কফিশপ, রেস্তোরা, পর্যবেক্ষণ ডেস্ক, থ্রিল রাইডসহ অনেককিছু। পর্যটকদের সব চাহিদাকেই পূরণ করে ক্যান্টন টাওয়ার।
ভ্রমণের সময়টা ছিল গরম কাল। শীত তখনও আসেনি। টাওয়ার চত্তরে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দক্ষিণা ঝড়ের মত একটানা বয়ে যাওয়া মধুর বাতাস ছিল গোটা এলাকা জুড়ে। লাগোয়া অসাধারণ নদী। বৈচিত্রের আরেকটা রূপ। একেবারে স্বচ্ছ নদীতে ঢেউয়ের উল্লম্ফন। ঝড়ো বাতাসের সঙ্গে পানির নাচন অভিভূত করে রাখে। তার মধ্যেই ছোট বড় রঙিন নৌকা এবং স্টিমারের আনাগোনা। অনেক পর্যটকই এসব নৌকা-স্টিমারে চড়ে ভ্রমণের ষোলকলা পূর্ণ করছিলেন।



