দার্জিলিং ভ্রমণ (পর্ব : নয়) লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
দার্জিলিং ভ্রমণ (পর্ব : নয়) লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ৭ জুলাই, ২০২১

দার্জিলিং ভ্রমণ (পর্ব : নয়)





 

দার্জিলিং ভ্রমণ (পর্ব : নয়)

ইয়াসমিন হোসেন

আমাদের চালকের নাম মনি হিন্দিভাষী বাংলা সবই বোঝে, কিন্তু বলতে পারে না প্রথমে ইংরেজিতে কথা বলতে গিয়ে যখন টের পেলাম বাংলা চমৎকার বোঝেÑ তখন আমরাও বাংলা শুরু করলাম মানুষ হিসেবে মনির মতো ভাল মানুষ কমই মেলে কথা বলতে বলতে এমনই হয়ে গেল যেÑ মনি যেন আমাদের অনেক দিনের চেনা এবং একেবারে বন্ধুবৎসল আপন লোক বয়স যদিও আমার চেয়ে বড় কিন্তু অমায়িক হিন্দিতে বেশ গল্প করছিলেন তিনি

অনেক দূর আসার পর মনি বললেন ডান পাশেই Batasia Loop বা War Memorial পর্যটকদের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা তিনি বাম পাশে গাড়ি থামিয়ে আমাদের দেখার জন্য অনুরোধ জানালেন আমরা নেমে এলাম

এই War Memorial ৯৪৭ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর মুক্তিসেনাদের স্মরণে তৈরি করা এখানেই প্রতিশক্তির বিরুদ্ধে ইন্ডিয়ান আর্মি এবং গুর্খা সেনারা ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দার্জিলিং শহর থেকে এটির দূরত্ব কিলোমিটার এটা এখন শুধু দর্শনীয় স্থানই নয়, কিলোমিটার রেলওয়ে লুপও টয় ট্রেনে করে এখান থেকে প্রকৃতি দর্শন করা যায়

আমরা টিকেট কেটে ভেতরে ঢুকতেই বীর সেনার বিশাল স্ট্যাচু দেখতে পেলাম চারদিকে দেখতে পেলাম কেনাকাটার নানান স্টল ছাড়াও দেখার মতো স্পট এইসঙ্গে দেখলাম স্ট্যান্ডে রাখা অসংখ্য টেলিলেন্স এবং বড় বড় বায়োনোকুলার টাকার বিনিময়ে এগুলো দিয়ে চারপাশের প্রকৃতি দেখার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কারণ চারদিকে দেখতে পাচ্ছিলাম আকাশ বরাবর কুয়াশার মেঘে ঢাকা পাহাড় এবং তার গা জুড়ে জনপদের সারি সারি বসতভবন আরও দেখা যাচ্ছিল কাঞ্চনযঙ্ঘা এবং হিমালয় পর্বত এখানে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ ধরে এগুলো দেখার মতোই বটেকাব্বিক মনকে সহসাই জাগিয়ে তোলার মতো চারপাশ তবে আমরা পায়ে হেঁটে যতোদূর সম্ভব ঘোরার চেষ্টা করলাম গোল চত্তরের ভেতর বীর সেনাপতির স্ট্যাচু দেখলাম সাজানো বাগান, রেল চলার ব্যবস্থা দেখলাম এই সুযোগে আমি চা-বাগানীদের পোশাক পড়ে ছবি উঠলাম ৩০ টাকায় এসব পোশাক পড়ে ঘুরে বেড়াবার ব্যবস্থা রয়েছে এছাড়া কেনাকাটার স্টলগুলোতে ঘুরে ঘুরে জিনিসপত্রের দাম যাচাই করলাম

প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার মত অবস্থান করার পর আমরা নিচে সড়ক পথে দাঁড়ানো আমাদের গাড়িতে চলে এলাম ফের রওনা হয়ে বেশ খানিক দূর আসার পর চালক মনি বললেন, সামনেই একটা বৌদ্ধ মন্দির দর্শনীয় পর্যটকরা এলেই এটা দেখেন মনি বললেন, দেখতে ১০ মিনিটের বেশি লাগবে না দেখা হয়ে গেলে আপনাদের নিয়ে যাবো হোটেলে তখন সাড়ে টা মতো বাজবে আপনারা নাস্তা করে নেবেন ৯টার পর আবার বেরুবো আমরাও এরকমই চাইছিলাম হোটেলে গেলে নাস্তাও পাবো, সেইসঙ্গে ফ্রেশ হয়েও নিতে পারবো

সুতরাং সড়কের এক পাশে মাইক্রো দাঁড় করাতেই আমরা নামলাম চোখের সামনে দেখতে পেলাম রাস্তার উপরের দিকে পাহাড়ের সিঁড়ি বেয়ে উঠে গেছে এবং সিঁড়ির মাথায় নানা রংয়ে কারুকার্য করা বিরাট ভবন  সিঁড়িতে পা দিতেই হাঁপানিতে আক্রান্ত হলাম দুতিন ধাপ উঠতেই হা করে দম নিতে নিতে থেমে পড়তে হচ্ছিল শ্বাস নিচ্ছিলাম বড্ড ক্লান্তভাবে স্বামী জিজ্ঞেস করলো, কী ব্যাপার একটুতেই হাঁপিয়ে যাচ্ছো, কোথায় আমি অ্যাজমার রোগী, আমি হাঁপিয়ে যাবো তা-না তুমি সুস্থ মানুষ হাঁপাচ্ছো!

আমি কথা বলতে পারছিলাম না স্বামী কোন রকমে হাত ধরে খাঁড়া নাক বরাবর সিঁড়ির চারতলা উঁচুমত উপরে উঠিয়ে মন্দির চত্তরে আমাকে দাঁড় করালো কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দম নিয়ে কোন রকমে বললাম, আমার কী হলো বুঝতে পারছি না, এমন তো আমি ছিলাম না! আমার বোধহয় অ্যাজমা হয়ে গেছে স্বামী পাত্তা না দিয়ে চমৎকার দর্শনীয় মন্দির দেখার জন্য ডাকলো বুঝলাম, আমাকে চাঙ্গা রাখার কৌশল নিয়ে কথা বলছে

বিরাট এলাকা নিয়ে মন্দির চত্তর ভেতরে ভক্তরা পূজা-অর্চনা করছেন বাইরেও হলুদ কাপড় জড়ানো অনেক নারী-পুরুষ ইতস্তত চলাফেরা করছেন চত্তরের এক পাশে অবস্থান করার মতো, অর্থাৎ আবাসনের মতো বেশ অনেকগুলি ঘরও রয়েছে ডান দিকে দেখলাম রাস্তা চলে গেছে ওইদিকে গেলে হয়তো আরও কিছু দেখতে পেতাম কিন্তু শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে ফিরে যাওয়ার জন্য রওনা হলাম ১০ মিনিট সময়ও ব্যয় করলাম না

দার্জিলিং দর্শন :

হোটেলে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করার পর সাড়ে ৯টার দিকে আমরা আবার দার্জিলিং দর্শনে বেরুলাম মনি এবার বিভিন্ন রাস্তাঘাট ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে গোটা এলাকা দেখার সুযোগ করে দিলেনপরে তিনি বললেন, এবার এমন একটা জায়গায় নিয়ে যাবোÑ যেখানে আছে জীব বৈচিত্রের নানা নিদর্শন তার আগে যাবো প্যাগোডা বা বৌদ্ধ মন্দিরে

এই প্যাগোডাকে বলা হয় জাপানি মন্দির বা Japanese Temple আঁকাবাঁকা এবং অলিগলি-ঊঁচুনিচু পথ ঘুরে আমরা পৌছে গেলাম এই বৌদ্ধ মন্দিরে ওয়েবসাইটের তথ্যে বলা হচ্ছে- it was built under the guidance of Nichidatsu Fujii (1885–1985), a Buddhist monk from Japan and founder of the Nipponzan-Myōhōji Buddhist Order. The foundation stone of the pagoda was laid on 3 November 1972 by Nichidatsu Fujii, and was inaugurated on 1 November 1992. The pagoda was designed by M. Ohka, and it took 36 months for constructing it. The height of the pagoda is 28.5 metres (94 ft) and diameter is 23 metres (75 ft)

নিচের রাস্তা থেকে সিঁড়ি বেয়ে উপড়ে উঠতেই আমাদের চোখে পড়লো দর্শনীয় ভবন সামনে দুটো সিংহ মূর্তি সেখানে পর্যটক এবং ভক্ত নারী-শিশুদের দেখা গেল ভেতরে জুতো খুলে ঢুকতে হয় আমি ক্যামেরা নিয়ে ঢুকলাম সেখানে প্রার্থনা, ধর্মীয় নানা কর্মকান্ড এবং ড্রাম বাজিয়ে সঙ্গীত পরিবেশন করা হচ্ছিল ছবি তোলা নিষেধ থাকায় ছবি না তুললেও ড্রামের তালে তাল মিলিয়ে ওদের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে এলাম এরপর ডান পাশের উঁচু চত্তরে বিশাল বৌদ্ধ মূর্তির জায়গায় রওনা হলাম জুতো খুলে উঠতে হয় খাঁড়া সিঁড়ি আমি আবারও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হলাম সিঁড়ি বেয়ে উঠতে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হলো উপরে উঠে অসহ্য যন্ত্রণায় হাঁপাতে লাগলাম

সিঁড়ি বেয়ে মোট চার চত্তরে উঠতে হলো প্রথমে চত্তর থেকে দ্বিতীয় চত্তরে, তারপর তৃতীয় চত্তর এবং শেষে চতুর্থ চত্তর এই চত্তরেই রয়েছে স্বর্ণ মূর্তির আদলে বিশাল বিশাল বৌদ্ধ মূর্তি এক-একটির উচ্চতা আমাদের আড়াই থেকে তিন মানুষ সমান রং উজ্জ্বল স্বর্ণের সত্যি সত্যি স্বর্ণের মূর্তি কিনাÑ জানতে পারিনি অবশ্য প্রথম মূর্তিতে দেবতা বৌদ্ধ এক হাত বুকে চাপার মতো করে রেখেছেন, আরেক হাতে দর্শনার্থীদের স্বাগত জানাচ্ছেন পরের মূর্তিতে দেবতাকে পাশ ফিরে শুয়ে থাকতে দেখা গেল তারপরেও আরও দুথেকে তিনটি বিশাল মূর্তি রয়েছে মন্দিরের বিরাট গোল গম্বুজ জুড়ে গম্বুজের দেয়ালে চমৎকার কারুকাজ এতে দেবতা বৌদ্ধকে তাঁর ভক্ত সঙ্গীরা দুহাতে তুলে ধরে রেখেছেনÑ এমন সব চিত্র রয়েছে এই মন্দির দেখতে ভিড় করে ছিলেন দেশ-বিদেশের নানা শ্রেণীর মানুষ ছিলেন পশ্চিমা দেশের নারী-পুরুষও

গম্বুজের চূড়ায় উঠার ইচ্ছা থাকলেও অসুস্থতার কারণে নেমে আসতে হলো মূল চত্তরে দাঁড়িয়ে দেখা যাচ্ছিল চারপাশের নৈসর্গিক দৃশ্য এখান থেকে মন্দিরের প্রবেশ ভবনকে দেখা যাচ্ছিল আরও চমৎকার এছাড়া চারপাশে শোভা পাচ্ছিল মাথার দিকটা চোখা হয়ে যাওয়া একজাতের অসংখ্য গাছÑ যেগুলো গোটা এলাকায়ই চোখে পড়েছে আরও রয়েছে অদ্ভুৎ সুন্দর ফুলে ভরা গাছ-গাছালি দূরে কুয়াশার মেঘে ঢাকা উঁচু উঁচু পাহাড় তো ছিলই

 

----------- চলবে -----------

পাকশী পদ্মাপাড় যদি কক্সবাজার সৈকত হয়? [Pakshi Padma arrow If Cox's Bazaar Is the beach?]

 পাকশী পদ্মাপাড় যদি কক্সবাজার সৈকত হয়? পাকশী পদ্মাপাড় যদি কক্সবাজার সৈকত হয়? [Pakshi Padma arrow If Cox's Bazaar Is the beach?] : পাকশ...