পাবনায় যতো বিদ্রোহ (১৯৭১ : মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ)

 







পাবনায় যতো বিদ্রোহ (১৯৭১ : মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ)

[১৯৭১ সালে ১০ এপ্রিলের পর গোটা পাবনা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দখলে চলে যায় অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের জন্য পাবনার তরুণ-যুবকরা সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে ভারতে যান সেখানে কয়েক ব্যাচে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এরপর এক-একটি ব্যাচকে গেরিলা যুদ্ধের জন্য পর্যায়ক্রমে দেশে পাঠানো হয় ভারতীয় সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়েই Ôপাবনায় যতো বিদ্রোহ-এর পর্ব ]

ইয়াসমিন হোসেন

বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধের সুসংগঠিত পর্যায় শুরু হয় জুলাই (১৯৭১) মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের দিকে  সময় বাংলাদেশ  সরকারের  নির্দেশে  যুদ্ধ  পরিচালনার জন্য  কলকাতায় মেজর পদমর্যাদার    জনকে নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ এক অধিবেশনে বসে অধিবেশন চলে ১১ জুলাই থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত এই অধিবেশন থেকেই  লে. কর্নেল রব-কে চিফ অব স্টাফ এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন কে খন্দকারকে মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এম জি ওসমানীকে করা মুক্তিবাহিনীর প্রধান যুদ্ধের জন্য বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয় পাবনা ছিল নম্বর সেক্টরের অধীনে

নম্বর সেক্টর : এই সেক্টরের অধীনে ছিল সমগ্র রাজশাহী, পাবনা বগুড়া জেলা, দিনাজপুর রংপুরের  অংশবিশেষ (দিনাজপুরের রাণীশংকৈল-পীরগঞ্জ লাইনের দক্ষিণাংশ রংপুরের পলাশবাড়ী-পীরগঞ্জ লাইনের দক্ষিণাংশ) সাব-সেক্টরের সংখ্যা ছিল আটটি সেক্টর ট্রুপসে ছিল ,০০০ সৈন্য গেরিলা বাহিনীতে ছিল ১০,০০০ সৈন্য নম্বর সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর নাজমুল হক (যুদ্ধের সময় এক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হন), পরে কমান্ডার হন মেজর কাজী নুরুজ্জামান

ভারতের কলকাতায় বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী কার্যালয় ছিল নং থিয়েটার রোডে সেখানে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাবনার মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত সামরিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে  অবস্থান নেন সামরিক প্রশিক্ষণ  গ্রহণ  করেন  এই  ক্যাম্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য  হলো, প্রিন্সেপ স্ট্রিট ক্যাম্প, কেচুয়াডাঙ্গা  ক্যাম্প, পানিঘাটা ট্রেনিং ক্যাম্প, করিমপুর ক্যাম্প, দেরাদুন  ক্যান্টনমেন্টহাফলং ক্যান্টনমেন্ট মুক্তিযোদ্ধারা এসব জায়গায় অবস্থান করে সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন তারপর দেশে ফিরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন

পাবনাসহ সারা দেশের এফএফ বাহিনীর সামরিক প্রশিক্ষণ হতো ভারতের বিভিন্ন স্থানে স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে . বিহার প্রদেশের চাকুলিয়া ক্যান্টনমেন্ট, . দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ি পানিঘাটা ট্রেনিং ক্যাম্প, . মেঘালয় রাজ্যের তুরা শহরের তেলঢালা পাহাড়ি এলাকার জঙ্গল, . আসাম প্রদেশের ত্রিপুরা জেলার আগরতলার মেলাঘর, . দার্জিলিং-এর মুরতি ক্যাম্প, . আসামের শিলং এবং তোরা ট্রেনিং ক্যাম্প এছাড়াও বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন ভারতের আরও বিভিন্ন ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং দেওয়া হতো

ইতিহাসের কিংবদন্তি মুক্তিযোদ্ধা : (বাম থেকে দাঁড়ানো) রফিকুল ইসলাম বকুল, মো. ইকবাল হোসেন, মো. জহুরুল ইসলাম বিশু, (বাম থেকে বসা) শামসুর রহমান বাদল, (ডানে) পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি

সাবেক মন্ত্রী (মাঝে) মোহাম্মদ নাসিমের সঙ্গে পরিতোষ কুমার দাস মণ্টে (ডানে) পরিতোষ কুমার (বামে)

প্রিন্সেপ  স্ট্রিট  ক্যাম্প :  পাবনার  মুক্তিযোদ্ধাদের একটি  ক্যাম্প  ছিল ৪৫ প্রিন্সেপ স্ট্রিট, কলকাতা-১৩ তে  এই বাড়ির মালিক ছিলেন ডা. বিধান রায় ক্যাম্পের পাশেই সতু সান্যালের বাসা এখানে কেবল পাবনা জেলা নয়, ঢাকাসহ অন্যান্য এলাকার মুক্তিযোদ্ধারাও আশ্রয় নিয়েছিলেন

কেচুয়াডাঙ্গা  ক্যাম্প : নদীয়া জেলার করিমপুর থানার কেচুয়াডাঙ্গা বিধানচন্দ্র বিদ্যানিকেতনে স্থাপন করা হয়েছিল পাবনার মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং ক্যাম্প সুজানগরের আহমদ তফিজ উদ্দিন আহমেদ এমপিএ সার্বক্ষণিক এই ক্যাম্পের তত্ত্বাবধানে ছিলেন আবদুর রব বগা মিয়া প্রায়ই এটি তদারক করতেন এখানে আসতেন এম মনসুর আলী, মো. নাসিম প্রমুখ নেতা ক্যাম্প চালু হয়ে গেলে এখানে আসেন গোলাম হাসনায়েন এমপিএ, আবদুস সাত্তার লালু, ওয়াজি উদ্দিন খান, বেবী  ইসলাম, গোলাম আলী কাদেরী, আওরঙ্গজেব বাবলু, ফেরদৌস শরীফতরিকুল আলম  নিলু, তোফাজ্জল হোসেন তক্কেল, সাহাবউদ্দিন চুপ্পু, আতাউর রহমান আফতাব, চন্দন কুমার চক্রবর্তী, ইমদাদ আলী বিশ্বাস ভুলু, খসরু, আসাদ, শহিদুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর, গোলাম হায়দার বাবলু, সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক, মো. শাহজাহান আলী, নবাব আলী মোল্লা, আজমল হোসেন লেবু, আবদুুল আউয়াল মুনু সর্দার, নিমাই চন্দ্র ঘোষসহ অনেকে এখানে সকাল-বিকাল পিটি-প্যারেড করানো হতো প্রথমে এখানকার ট্রেনিং মাস্টার ছিলেন আবদুল হাই পরে আসেন পাবনার আরআই আবুল খায়ের কেচুয়াডাঙ্গার পাশে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে পাবনার মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আরেকটিট্রানজিট ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল পাবনার যোদ্ধাদের কেচুয়াডাঙ্গা ক্যাম্প থেকে আর্মি ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হতো বহরমপুরে, তারপর ট্রেন আর্মি ভ্যানে নেওয়া হতো পানিঘাটা ট্রেনিং ক্যাম্পে ট্রেনিং দিতেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন এস কে দত্ত, আকবর খানসহ কয়েকজন ট্রেনিং-এর পর নিয়ে যাওয়া হতো বালুঘাট ক্যাম্পে এরপর মালদহের মেদিনীপুর থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা নং সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতেন

শিকারপুর ক্যাম্প : রাজা মিয়া এমপিএ- শিকারপুর  ক্যাম্পেও পাবনার  মুক্তিযোদ্ধারা  থাকতেন এই  ক্যাম্পের পরিচালক ছিলেন চারজন ইপিআর সদস্য

পানিঘাটা ট্রেনিং ক্যাম্প : ভারতের পানিঘাটা ট্রেনিং ক্যাম্পে পাবনার ৩৬ জনের একটি গ্রুপ ট্রেনিং গ্রহণ করে এবং ৭নং সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয় এর প্লাটুন কমান্ডার ছিলেন সাঁথিয়ার মো. নিজাম উদ্দিন, গ্রুপ লিডার ছিলেন পাবনার চন্দন কুমার চক্রবর্তী এখানে অন্যান্য যাঁরা ট্রেনিং নিয়েছিলেন তাঁরা হলেনÑকাজী সদরুল হক সুধা (ঈশ্বরদী), সিরাজুল ইসলাম মণ্টু (ঈশ্বরদী), শহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর (আতাইকুলা), মোজাফফর  হোসেন (কৃষ্ণপুর), তক্কেল (হেমায়েতপুর), আবদুল হাই মাহমুদ বাদশা (গোপালপুর), মনছুর রহমান (সুজানগর),  মোজাম্মেল হক ময়েজ (চাটমোহর), সামছুদ্দিন (কুঠিপাড়া), ইউসুফ (পৈলানপুর), নাছিম (বেলতলা), রহমান (চর দুলাই), বনগ্রামের আক্কাস, সলিম, রঞ্জু, আটঘরিয়ার মোরশেদ, নজরুল, তোতাআলো প্রমুখ ট্রেনিং  শেষে  তাঁরা  মেজর  ইদ্রিস   ক্যাপ্টেন  জাহাঙ্গীরের কমান্ডে  শ্রীপুর আমবাগান, দলদলিয়াসহ চাপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধ করেন

করিমপুর ক্যাম্প : পাবনার যোদ্ধাদের জন্য আরেকটি ক্যাম্প ছিল ভারতের নদীয়া জেলার করিমপুর থানায় পাবনার কমিউনিস্ট পার্টি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ  মোজাফফর), ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া গ্রুপএর  নেতাকর্মীরা এই ক্যাম্পটি পরিচালনা করতেন কমরেড প্রসাদ রায়, আমিনুল ইসলাম বাদশা, রণেশ  মৈত্রজাহিদ হাসান জিন্দান প্রমুখ নেতা এই ক্যাম্পের ব্যবস্থাপনায় ছিলেন এই ক্যাম্প থেকে পাবনার মুক্তিযোদ্ধাদের  প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হতো আসামের তেজপুর এলাকার সেলুনবাড়ি ক্যান্টনমেন্টে নারী মুক্তিযোদ্ধা শিরিন বানু মিতিলও এই ক্যাম্পে ছিলেন

জলঙ্গী ক্যাম্প : পাবনার মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য একটি সাব-ক্যাম্প করা হয়েছিল জলঙ্গীতে এই ক্যাম্পের ব্যবস্থাপনায় ছিলেন শামসুর  রহমান  শরিফ ডিলু, মহিউদ্দিন  আহমেদ, মো. নুরুল  ফকির, মো. চাঁদ  আলীআবদুল খালেক মুকুল, ওয়াজি উদ্দিন খান, তোজাম আলী মিয়া প্রমুখ

চাকুলিয়া ট্রেনিং ক্যাম্প : বিহার প্রদেশের চাকুলিয়া ক্যান্টনমেন্ট থেকে পাবনার বহু মুক্তিযোদ্ধা ট্রেনিং গ্রহণ করেছিলেন ৩৮ দিনের  প্রশিক্ষণ শেষে পাবনা জেলার ৭৩ জন  সশস্ত্র  মুক্তিযোদ্ধা বীরশ্রেষ্ঠ  ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে আগস্টের তারিখ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের ধুলাউরি, লালগোলা, বাবুল-তলী, শেখপাড়া, গোধনপাড়া বর্ডারগুলোতে মোট ৬টি যুদ্ধে অংশ  নেন  আগস্টের  প্রথম সপ্তাহে  তাঁরা নম্বর সেক্টরের  সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর  গিয়াসউদ্দিনের নেতৃত্বে রাজশাহীর কাটাখালি ব্রিজ অপারেশনে অংশগ্রহণ করেছিলেন সব যুদ্ধে অংশ নেন মো. আওরঙ্গজেব, মকবুল হোসেন সণ্টু, এম এম গাজী মোজাহারুল হক প্রমুখ

দেরাদুন চাকতারা  ক্যান্টনমেন্ট :  ইন্ডিয়ান  মিলিটারি  একাডেমি দেরাদুনে মুজিববাহিনীর প্রথম  ব্যাচের  ‘-গ্রুপে বাংলাদেশের মোট ২৯৫ জন ট্রেনিং গ্রহণ করেন এর মধ্যে পাবনা জেলার ১৫ জন ছিলেন তাঁরা হলেন . মো. ইকবাল হোসেন, . মো. জহুরুল ইসলাম বিশু, . আবদুর রাজ্জাক মুকুল, . গোলাম মাহমুদ, . আবদুর রাজ্জাক রিদ্দিক, . হানিফ হোসেন বাবু, . আবুল কালাম আজাদ বাবু, . ইসমত হোসেন, . জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম, ১০. সাইফুল ইসলাম রানু, ১১. শাহনেওয়াজ খান হুমায়ুন, ১২. ফজলুল হক মণ্টুু ১৩. আবদুল হান্নান, ১৪. শাহ আলম খান, ১৫. আবদুল হাই মঞ্জু (সূত্র : পাবনা জেলার মুক্তিযুদ্ধের কথা, পৃ. ১০৯)

দেরাদুনের  চাকতারা ক্যান্টনমেন্টে দ্বিতীয় ব্যাচে Ô-গ্রুপে ট্রেনিং নিয়েছিলেন ৪০ জন  তাঁরা হলেন শাহজাহান আলী, ইসমাইল হোসেন মেছের, আবদুল মতিন আহমেদ জিন্নাহ, কে এম শরিফুল ইসলাম, আবদুর রহিম পাকন, মেসবাহুর রহমান রোজ, রেজাউল করিম রেজা, আতিয়ার রহমান সাচ্চু, শহীদুল্লাহ আহম্মদ বকুল, মোশাররফ হোসেন মুছা, মজিদুল হক মণি, শফিকুল ইসলাম শফি, নুরুজ্জামান বিশ্বাস (ঈশ্বরদী),  আনিছুর রহমান আনিছ (ঈশ্বরদী) সহ মো. তপন, মান্নান -, মো. সেলিম (ফরিদপুর), আবদুল মান্নান (ফরিদপুর), আবদুল লতিফ (ফরিদপুর), চঞ্চল হোসেন (চাটমোহর), আবদুল গনি (চাটমোহর), মো. আজাদ (ঈশ্বরদী), আলাউদ্দিন চাঁদ (ঈশ্বরদী), মো. আরজু (ঈশ্বরদী), মতিয়র রহমান মতি (বেড়া), আশরাফ আলী (বেড়া), সিরাজুল ইসলাম (বেড়া), সুজানগরের মধু মিঞা, মো. আসেল, মো. সামসুল ইসলাম, আবদুস সামাদসাঁথিয়ার আফতাব  উদ্দিনআবদুল  লতিফসহ  মোট  চল্লিশ  জন  (সূত্র :পাবনা  জেলার মুক্তিযুদ্ধের কথা, পৃ. ১২১)

এরপর মুজিব বাহিনীর তৃতীয় চতুর্থ ব্যাচে চাকতারা ক্যান্টনমেন্টে পাবনার প্রায় ২০০ জন মুক্তিযোদ্ধা ট্রেনিং গ্রহণ করেছিলেন তাঁরা হলেন মোখলেছুর রহমান মুকুল, অঞ্জন চৌধুরী পিণ্টুু, আবদুর রাজ্জাক (সুজানগর), সাইফুল আলম বাবলু (সুজানগর), নূরুল ইসলাম নূর (সুজানগর), হাবিবুর রহমান মালিথা (ঈশ্বরদী), এনামুল বারী ডাবলু, রেজাউল হক রেজা, মমতাজ উদ্দিন মণ্টু (দোগাছি), গোপালপুরের সেন্টু, হাসান, হুসেন, আবদুল মালেক খান, মহসিন আলী, মতিয়ার রহমান মতি, আটঘরিয়ার প্রফুল্ল মোহন চৌধুরী, এবাদত আলী পাশা, কালু প্রামাণিক, ইমদাদ আলী বিশ্বাস ভুলু, আবদুল জলিল, আবদুল মান্নান (রাধানগর), আটুয়ার  শাহাদৎ হোসেন সণ্টু, ফারুক আলী রমজান, আতিয়ার রহমান সাচ্চু, আবদুল মান্নান, আসাদুল ইসলাম রতন, নুরুজ্জামান বিশ্বাস (পৈলানপুর), মিজানুর রহমান, খন্দকার আবুল কালাম আজাদ (গোপালপুর), সুলতান মাহমুদ চৌধুরী খসরু (গোপালপুর), রবিউল হোসেন, আবদুল মুন্নাফ (কৃষ্ণপুর), দেলোয়ার হোসেন দিলু (কৃষ্ণপুর), এস এম ইব্রাহিমআবুল  হোসেন  হাঙ্গেরী (গোবিন্দা),  দেওয়ান  মাহমুদুল  হক  দুলাল (পৈলানপুর),  মনজুর  রহমান বিশ্বাস  (ঈশ্বরদী),  আবদুস  সামাদ (ঈশ্বরদী),  আবদুর  রাজ্জাক (ঈশ্বরদী),  সুজাউদ্দিন সরকার (বেড়া), আলতাফ মাহমুদ (বেড়া), আবদুল হান্নান (ভাঙ্গুরা), খলিলুর রহমান ইঞ্জিনিয়ার (ফরিদপুর), আবদুস সামাদ (চাটমোহর), আবদুল মতিন (রাধানগর), মো. বাবলু (রাধানগর), প্রভাত ডি কস্তা (চাটমোহর), আদম ডি কস্তা (চাটমোহর), ইগনেসিউজ গমেজ (চাটমোহর),  অমল  ডি  কস্তা (চাটমোহর),  ওয়ালটার  ডি  কস্তা (চাটমোহর),  দুলাল  চন্দ্র  কর্মকার (চাটমোহর), আতাউর রহমান (রাধানগর), মো. চুনু (নয়নামতি), মো. মহসিন (সিঙ্গা), আনোয়ার হোসেন (আটঘরিয়া), লোকমান হোসেন (আটঘরিয়া) সহ অনেকে (সূত্র : পাবনা জেলার মুক্তিযুদ্ধের কথা, পৃ. ১২১-১২২)

এই ট্রেনিং ক্যাম্পের ইনচার্জ ছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্নেল বুইক ডেপুটি ইনচার্জ ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল প্রকাশ চন্ত্র  পুরকায়স্থ দেরাদুন  মুক্তিযোদ্ধাদের  জন্য  প্রকৃত  কোনো  ট্রেনিং  ক্যাম্প  ছিল  না  এখানে  তাঁদের  সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হতো প্রকৃত ট্রেনিং দেওয়া হতো দেরাদুন থেকে ৯২ কিলোমিটার দূরে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা চাকতারা ক্যান্টনমেন্টে

হাফলং ক্যান্টনমেন্ট: ভারতের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত হাফলং ক্যান্টনমেন্টে মুজিব বাহিনীর প্রথম ব্যাচেরবি- গ্রুপে ট্রেনিং নিয়েছিলেন বাংলাদেশের মোট ৪৭৫ জন এর মধ্যে পাবনার ছিলেন ২১ জন তাঁরা হলেন . বেবী ইসলাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, . গোলাম সারোয়ার খান সাধন, . আবদুুল হামিদ, . নজরুল ইসলাম সাচ্চু, . মো. শওকত বাবলু, . ফকরুল ইসলাম, . রুহুল আমীন রুকু, . দুলাল হোসেন দুলাল, ১০. গোলাম আজিজ জিলানী, ১১. আহমেদ করিম, ১২. এমদাদুল হক পান্না, ১৩. আহমেদ শফিক, ১৪. রবিউল আলম টুকু, ১৫. আবদুল মতিন খান রাজ্জাক, ১৬. আলমগীর কবীর স্বপন, ১৭. নুরুল ইসলাম নুরু, ১৮. আলমগীর খান বেলাল, ১৯. শরিফুল ইসলাম ইঞ্জিনিয়ার, ২০. মহিউদ্দিন বুদু, ২১. সাইফুল ইসলাম মুন্নু

দ্বিতীয় ব্যাচে হাফলং ক্যান্টমেন্টে পাবনার আরও ৪৫ জন গিয়েছিলেন তাঁরা হলেন বৈরাম খান, আবদুল মান্নান চয়েন, গিয়াস উদ্দিন, রবিউল ইসলাম রবি (ডিলার), মো. মহররম, সহিদুল ইসলাম (সায়দু), আকমল হোসেন এসও, নবাব আলী, আবদুল্লা হেলাল কাফী, আবদুুল আজিজ মালিথা, মাহতাব উদ্দিন প্রামানিক, লোকমান হোসেন (সাঁথিয়া) সহ ৪৫ জন (সূত্র: পাবনা জেলার মুক্তিযুদ্ধের কথা, পৃ. ১২১)

ট্রেনিং শেষে মুজিব বাহিনীর প্রথম গ্রুপটি পাবনায় প্রবেশ করে আগস্ট মাসে এর পরবর্তীতে ট্রেনিংপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা দলে দলে পাবনায় প্রবেশ করেন এবং জেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর নকশালদের বিরুদ্ধে লড়াই করেন


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Thanks for Message

পাকশী পদ্মাপাড় যদি কক্সবাজার সৈকত হয়? [Pakshi Padma arrow If Cox's Bazaar Is the beach?]

 পাকশী পদ্মাপাড় যদি কক্সবাজার সৈকত হয়? পাকশী পদ্মাপাড় যদি কক্সবাজার সৈকত হয়? [Pakshi Padma arrow If Cox's Bazaar Is the beach?] : পাকশ...